সুশান্ত সিং রাজপুতের মর্মান্তিক মৃত্যু

Homepost চলচিত্র

শুভাশিস হাজরাঃ সুশান্ত সিং রাজপুতের মর্মান্তিক মৃত্যুতে রবিবার বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি একজন সাবলীল অভিনেতাকে হারাল। মৃত্যুর সময় অভিনেতার বয়স হয়েছিল চৌত্রিশ বছর। পুলিশ রিপোর্ট অনুসারে তিনি মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় তাঁর বাসভবনে আত্মহত্যা করেন। এম এস ধোনি তাঁর মৃত্যুতে গভীর শকস্তব্ধ। এমন কি তিনি কোচ কেশব ব্যানার্জীর ফোন পর্যন্ত ধরেন নি। কারণ দ্য আনটোল্ড স্টোরিতে এমএস ধোনির ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন এই সুশান্ত সিং রাজপুত। ধনির সাথে সুশান্ত সিং রাজপুতের বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ধনী সুশান্ত রাজপুতকে কেশব ব্যানার্জির কাছে পাঠান। যিনি ধনির হেলিকপ্টার জন্য বিখ্যাত। রাজেশ শর্মা এই ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

দ্য আনটোল্ড স্টোরি করার জন্য সুশান্ত সিং এতটাই মনোনিবেশ করেছিলেন যে ক্রিকেটে উইকেট কিপিং করার জন্য তিনি কিরণ মোরের কাছে নয় মাস ট্রেনিং এ থাকেন। কিরন মোরে প্রথম ভেবেছিলেন একজন ফিল্মস্টার ক্রিকেটের প্রতি কতটা সহানুভূতি দেখাবেন। কিন্তু সুশান্ত সিং রাজপুতের একা ক্রিকেটের প্রতি একাগ্রতা দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। যার ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সুশান্ত সিং রাজপুত দ্য আনটোল্ড স্টোরিতে নিজেকে একজন ক্রিকেটার হিসাবে পরিণত করেন।

বিনোদন শিল্পেও শোকের ছায়া। শাহরুখ খান, সালমান খান, দিশা পাটানি, দীপিকা পাডুকোন প্রমুখ অভিনেতারাও মৃত্যুর জন্য শোক প্রকাশ করেছেন।

রবিবার (১৪ জুন) সকালে আত্মহত্যা করেন সুশান্ত সিং রাজপুত। তিনি ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে হতাশায় ভুগছিলেন। অভিনেতা তার জন্য মানসিক চিকিত্সাও করছিলেন।

সুশান্তের বোন পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে অভিনেতার জীবনে কোনও আর্থিক সমস্যা হয়নি। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে সুশান্ত সিং রাজপুত ভাল বোধ করছিলেন না। তাঁর বোন মুম্বাইয়ের তার বান্দ্রার বাসায় অভিনেতাকেও দেখেছিলেন। তিনি আরও বলেন যে অভিনেতার ডিপ্রেশন ডায়াগনোসিস সম্পর্কে সচেতন ছিলেন, কখনই এমন কঠোর পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করেননি। তিনি আরও বলেন যে সুশান্ত সিং রাজপুত ভালবাসার মানুষ ছিলেন। তিনি পাশাপাশি স্বাভাবিকভাবেই কথা বলছিলেন।

সুশান্তের ব্যবস্থাপক ৩৪ বছর বয়সী এই অভিনেতার ফোনের পাসওয়ার্ড জানতেন, যার মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে যে তার শেষ কলটি ছিল মৃত্যুর একদিন আগে টেলিভিশন অভিনেতা এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু মহেশ শেঠির কাছে। মহেশ শেঠিকে ফোন করার আগে সুশান্ত তার বোনকে ফোন করেছিল এবং তার সাথে সংক্ষিপ্ত কথা বলেছিল। ১৪ ই জুন সকালে, মহেশ অভিনেতাকে আবার ফোন করেছিলেন কিন্তু ইতিমধ্যে তিনি ….।

পুলিশ তার ফোনের সমস্ত রেকর্ড খুঁজে দেখছে। ফোনটিই তদন্তের মূল চাবিকাঠি। প্রাথমিক ভিত্তিতে, পুলিশ আত্মহত্যার কারণ হিসাবে আর্থিক কারনটি বাতিল করে দিয়েছেন। আপাতত, পুলিশ প্রয়াত অভিনেতার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আত্মীয়দের দিকে তাকিয়ে আছে।

 

Share this: