আপনাকে ভুলব না জ্ঞানতাপস অধ‍্যাপক ডঃ হরিশঙ্কর বাসুদেব।

Homepost রাজ্য

চয়ন ভট্টাচার্য – কেরলের মানুষ বাংলা কে আপন করে নিয়েছিলেন। ছাত্রবৎসল অধ্যাপক ডঃ হরিশঙ্কর বাসুদেবের প্রয়াণে আজ শিক্ষাজগৎ শোকস্তব্ধ। ইতিহাস গবেষক,ইউরোপীয় ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়,আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাস ,শিল্পের ইতিহাস সমকালীন ভারতীয় অর্থনীতি ও পরিকল্পনার ইতিহাস নিয়ে তাঁর অপরিসীম জ্ঞানে সমৃদ্ধ হতেন তাঁর ছাত্রছাত্রীরা। কিন্তু ভারততাত্ত্বিক ও সমাজবিজ্ঞানী হিসাবেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। রাশিয়ার ইতিহাসের চর্চায় ভারতবর্ষে অধ‍্যাপক হরিশঙ্কর বাসুদেব ছিলেন অন‍্যতম অগ্রণী পণ্ডিত। তিনি রুশ ভাষাও জানতেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ১৯৭৮ সাল থেকে কিন্তু পড়িয়েছেন রাশিয়ান আকাদেমি অফ সায়েন্সেস ও কিয়েভ বিশ্ববিদ্যালয়ে,মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্রের কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয়,লণ্ডনের কিংস কলেজ,ফ্রান্সের এম এস এইচ,সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়,চিনের ইউনান নর্ম‍্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০৭ থেকে ২০০১১ পর্যন্ত ডঃ হরিশঙ্কর বাসুদেবন ছিলেন কলকাতার মৌলানা আবুল কালাম ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজের অধিকর্তা ছিলেন। তারপর ২০১২ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিন ও তার প্রতিবেশী সংক্রান্ত কেন্দ্রের অধিকর্তা ছিলেন। এই পর্বে সমসাময়িক চিন সম্পর্কে তাঁর অসাধারণ তথ‍্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে সমৃদ্ধ হয়েছেন তাঁর ছাত্রছাত্রীরা। অধ‍্যাপক হরিশঙ্কর বাসুদেবনের উদ‍্যোগেই জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ‍্যযুগের ইতিহাস পড়ানোর ব‍্যবস্থা করাহয়েছিল।

অধ‍্যাপক হরিশঙ্কর বাসুদেবের ইতিহাসের স্নাতকোত্তর ও পি এইচ ডি গবেষণা ছিল কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ছাত্র, অধ‍্যাপক এবং গবেষক লেখক হিসেবে যথার্থ কৃতী এই মানুষটির লেখা দুটি বইয়ের সম্মান মূল্য আন্তর্জাতিক সারস্বত জগতে অপরিসীম। ফুটস্টেপস অফ আফানিসি নিকিতিন (২০১৫ ) এবং শ‍্যাডোস অফ সাবস্টেন্স – ইন্দো রাশিয়ান ট্রেড অ‍্যাণ্ড মিলিটারি কো অপারেশন (২০১০) এই দুটি বই ছাড়া তাঁর মায়ের স্মৃতি কথা লেখার কাজ শুরু করেছিলেন তিনি যা অসমাপ্ত রয়ে গেল। তাঁর রচিত অসংখ্য প্রবন্ধ দেশে বিদেশে আলোচিত। ভারতবর্ষে কমিউনিজম চর্চা নিয়ে তাঁর রচিত গবেষণা প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত গ্রন্থে।

আরো একটি সাধ অপূর্ণ রয়ে গেল অধ‍্যাপক হরিশঙ্কর বাসুদেবনের। একটি ইতিহাসচর্চার উপযোগী সহায়ক সংগ্রহশালা গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল তাঁর।প্রয়াত কিংবদন্তি ঐতিহাসিক রমেশ চন্দ্র মজুমদারের বাসভবনে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ইতিহাসে ভারতীয় শিকড়ের টান নিয়ে গবেষণার জন‍্যই অধ‍্যাপক হরিশঙ্কর বাসুদেবন এই সংগ্রহশালাটি গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

Share this: