ভারতীয় ফুটবল চূনী হীন

খেলা বিশেষ বিশেষ

আজ শুক্রবারের প্রতিবেদন – আজ বিকেল পাঁচটায় প্রয়াত হলেন ভারতীয় ফুটবলের অন‍্যতম চিরশ্রেষ্ঠ ফুটবলার চূনী গোস্বামী। দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আজ দুপুরেই ভর্তি করা হয় ভারতীয় ফুটবল দলের তিরাশি বছর বয়সী এই প্রাক্তন সদস্য কে। ক্লাব ফুটবলে মোহনবাগান ছাড়া আর কোন দলের হয়ে খেলেন নি চূনী গোস্বামী। রণজি ট্রফিতে বাংলার ক্রিকেট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক এবং বাংলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক-  এই যুগল কৃতিত্ব আর কোন ফুটবলারের নেই।

কিংবদন্তি বলতে যা বোঝায় বাংলার ফুটবলে চল্লিশ থেকে ষাটের দশকের ফুটবলারদের মিলিত তালিকার বাইরে খুব বেশি ভাবার সুযোগ নেই,কারণ ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের ফুটবলে সফল হয়েছিলেন এই সময়ের তারকা ফুটবলারেরাই। চূনী গোস্বামীকে প্রথম থেকেই তুলনা করা হত পূর্বসূরী আমেদ খানের সঙ্গে। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের ফুটবলে ভারতীয় ফুটবলের ফরোয়ার্ড লাইন মানেই চূনী,পি কে,বলরাম। তিনজনের মধ‍্যে প্রথমে চলে গেছেন পি কে ওরফে প্রদীপ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়,আজ প্রয়াত হলেন চূনী গোস্বামী। দুই সতীর্থের স্মৃতি নিয়ে  জীবিত রয়েছেন বলরাম। প্রদীপ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের ফুটবলে গতি ও শক্তির সঙ্গে সৌন্দর্য যদি অসামান্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে থাকে,তাহলে চূনী গোস্বামীর খেলায় ছিল স্কিলের সৌন্দর্যের সাথে ক্ষুরধার অনুমান শক্তি এবং বিপক্ষের সীমানায় যে কোন জায়গায় বল পেলেই বিপক্ষের ত্রাস তৈরি হত। ঘরোয়া ফুটবলে চূনী গোস্বামীকে আটকে দেওয়া ডিফেণ্ডারদের কদর ছিল ক্লাবগুলির কাছে। তবে এমন সাইড ব‍্যাক বা স্টপারের সংখ্যা সারা ভারতেই বিরল। অবিশ্বাস্য দ্রুততায় বল নিয়ে বিপক্ষের রক্ষণভাগ ছিন্নভিন্ন করতেই অভ‍্যস্ত ছিলেন।
জন্ম অধুনা বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে ১৯৩৮ সালের ১৫ই জানুয়ারি। আসল নাম সুবিমল গোস্বামী,কিন্তু পরিচিত ছিলেন ডাকনাম চূনী তেই। মাত্র আট বছর বয়সে  ১৯৪৬ সালে মোহনবাগান  জুনিয়র দলে সুযোগ পেয়ে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত খেলার পর সেই বছর থেকেই ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত মোহনবাগান সিনিয়র দলে। জাতীয় ফুটবল দলে প্রথম সুযোগ পেয়েছিলেন ১৯৫৬ সালে। খেলেছেন অলিম্পিক,এশিয়ান গেমস,মারডেকার মত প্রতিযোগিতায়।  অধিনায়ক হিসাবে জিতেছিলেন ১৯৬২সালের  এশিয়ান গেমসের সোনা ও ১৯৬৬তে রৌপ‍্য পদক। তেতাল্লিশ টি আন্তর্জাতিক ম‍্যাচে গোল করেছেন এগারোটি। অধিনায়কত্ব করেছেন বাংলা ও মোহনবাগান  ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব করেছেন সফল অলরাউন্ডার সদস্য হিসাবে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে পেয়েছেন দেড়হাজারের বেশি রান এবং সাতচল্লিশ টি উইকেট। খেলা নিয়ে রূপকথা লিখলেও এমন কেরিয়ার কল্পনা করতে কোন ক্রীড়া লেখক আজও সাহস পাবেন কিনা সন্দেহ। খেলা ছাড়া র পর স্বল্পকালীন যুক্ত মেয়াদে হয়েছিলেন টাটা ফুটবল অ‍্যাকাডেমি ও ভারতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে। ক্রীড়া প্রশাসক হিসেবে যুক্ত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ‍্য ক্রীড়া পর্ষদের সঙ্গে।
সত‍্যি রাজপুত্র আজ বিদায় নিলেন।
Share this: