রেলের গ্রুপ ডি নিয়োগ বেআইনি,  ১৫০০এর  বেশি মামলাকারীকে চাকরিদিতেনির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের।

রাজ্য সম্পাদকীয়

রাকা মৈত্র – আবার সরকারি নিয়োগ ব‍্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার আইনি লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে আনলেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। রেলে বে আইনি ভাবে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে ১৫০০র বেশি মামলাকারির হয়ে লড়াই করলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও রাজ‍্যসভার সদ‍্যনির্বাচিত সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। হাইকোর্টের দুই বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও প্রতীক প্রকাশ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ  গত ২৪শে এপ্রিল মামলাকারিদের চাকরি দেবার নির্দেশ দিলেন।

২০১২ সালে রেলের রিক্রুমেন্ট নোটিফিকেশন ১১২ নম্বর রেলের গ্রুপ ডি র পরীক্ষায় মামলাকারীদের পক্ষে হাইকোর্ট থে‌কে আজ প্রচুর সংখ্যক পরীক্ষার্থীদের চাকরিতে যোগদানের করানোর জয় ছিনিয়ে আনার জন্য।এই মামলায় জুনিয়র আইনজীবি হিসেবে কাজ করেছেন বিক্রম ব‍্যানার্জী ও সুদীপ দাশগুপ্ত।
রেলের গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বের হয় ২০১২ সালের ১৬ আগস্ট । শূন্যপদ ছিল প্রায় ৫০০০। আবেদন জমা পড়ে প্রায় ১৭ লক্ষ। ১০ দিন ধরে দুই শিফটে নেওয়া হয় পরীক্ষা। অর্থাৎ ২০ শিফটে চাকরির পরীক্ষা দেন ১৭ লক্ষ পরীক্ষার্থী । ভিন্ন শিফটে পরীক্ষা হয় ভিন্ন প্রশ্নমালায়। কিছু প্রশ্নমালা হয় কঠিন, কিছু সহজ। ২০টি প্রশ্নমালায় নেওয়া পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত নম্বরের মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাখা হয় ‘নর্মালাইজেশন’ পদ্ধতি। এই নর্মালাইজেশন পদ্ধতির নামে বেআইনি ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপোষনের অভিযোগ এনে মামলা হয় প্রথমে ট্রাইবুনালে।  পরে মামলা পৌঁছায় হাইকোর্টে। মামলাকারীদের তরফে সিনিয়র আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, নরমালাইজেশনের নামে অনেকে ১০০ মধ্যে ১১০ নাম্বার পেয়েছে।
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি প্রতীক প্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় ডিভিশন বেঞ্চ মামলায় জানতে চায়, নরমালাইজেশন কীভাবে, কখন হয় ? সদুত্তরের খোঁজে  রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট সেলে’র চেয়ারপার্সন-কে জরুরি ভিত্তিতে এজলাসে আগেই তলব করেছিল হাইকোর্ট। যদিও হাইকোর্ট-কে সন্তুষ্ট করতে তখন পারেন নি রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট সেলের চেয়ারপার্সন। চেয়ারপার্সন ডিভিশন বেঞ্চে হাজিরা দিয়ে জানান, ‘রেলে গ্রুপ ডি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সব ফাইল সঠিকভাবে গুছিয়ে রাখা যায়নি। ২০১২পরবর্তী সময়ে রেলের একাধিক জোনের রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড এবং সেলের চেয়ারপার্সন অদল বদল হয়, তাই সঠিকভাবে সেই সময় সমস্ত ফাইল যথাযথভাবে রক্ষিত  হয়নি।’
শুক্রবার ২৪শে এপ্রিল  বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি প্রতীক প্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় ডিভিশন বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন রেলের গ্রুপ ডি নিয়োগ মামলার। রায়ে হাইকোর্ট জানায়, ২০১২ রেলের গ্রুপ-ডি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে।গ্রুপ ডি নিয়োগে নর্মালাইজেশন নামে  খামখেয়ালি পদ্ধতির প্রয়োগ হয়েছে। নরমালাইজেশন পদ্ধতির নামে বিধিভঙ্গ করেছে রেল। রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট সেলের কাজের সমালোচনাও করে হাইকোর্ট। মামলাকারী বিপুল বিশ্বাস দের অভিযোগ কে মান্যতা দিয়েছে হাইকোর্ট। বিপুল বিশ্বাসদের আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত ও বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের কপি হাতে পাওয়ার ৪ মাসের মধ্যে তাদের প্রায় ১৫০০ মক্কেলকে নিয়োগ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রেলকে। তবে ইতিমধ্যেই নিযুক্ত ৩০০০ বেশি গ্রুপ ডি কর্মীর চাকরি যাবেনা বলেও নির্দেশে জানিয়েছে হাইকোর্ট।’
Share this: